লোভ
২য়_পর্ব
অনন্য_শফিক
'
মেয়ে লোকটির কথা শুনে আমার কপালের একটা পাশ থেকে কেমন যেন ঘাম ঝরতে শুরু করে।মাথাটা কেমন টলে উঠে।
আমি তাকে বলি,' আপনি চেয়ারম্যান স্যারের স্ত্রী বলছেন?'
মেয়ে লোকটি বললো,' ইয়েস । '
আমার খুব খারাপ লাগতে থাকে। কেন জানি মনে হয় উনি চেয়ারম্যান স্যারের স্ত্রী না। চেয়ারম্যান স্যারের স্ত্রীর বয়স অতো কম হবার কথা না।গলা শুনে কিছুতেই এমন মনে হচ্ছে না। স্যার বয়সে ষাট পেরিয়েছেন।হজ্ব করেছেন কয়েকবার।দান খয়রাত করেন।সমাজে তার অনেক খ্যাতি। তার সঙ্গে আমার সরাসরি দু বার কথা হয়েছিল।উনি বড় মাপের মানুষ। তার অফিসের সামান্য চাকুরে আমি। তার সঙ্গে যে আমার দু বার কথা হয়েছে এটাই তো অনেক! কিন্তু এই দু বার কথা বলেই আমার মনে হয়েছিল, চেয়ারম্যান স্যার অতি ভালো লোক। এমন লোক হয় না। কিন্তু এই মেয়ে লোকটি ফোন দিয়ে এসব কি বলছে স্যার আর আমার স্ত্রীর সম্পর্কে?
'
আমি ফোন কেটে দিলাম এখান থেকে। তারপর সরাসরি কল করলাম তনুকে।দু বার কল দিলেও রিসিভ করেনি সে। কিন্তু মিনিট দশেক পর সে নিজে থেকেই ফোন করলো আমায়। বললো,' কেমন আছো তুমি?'
আমি কথা বলতে পারছি না। চুপ হয়ে আছি। কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে।কি বলবো তাই খুঁজে পাচ্ছি না।
তনু বললো,' কথা বলছো না কেন? এখনও রাগ করে আছো আমি জোর করে এসে পড়েছি বলে?'
আমি এবার কথা বললাম। বললাম,' তনু, তুমি কোথায় আছো? এখন কোথায় তুমি?'
তনু বললো,' আমি কোথায় তুমি তা জানো না?'
রেগে গেল সে।
আমি বললাম,' এভাবে রেগে যাচ্ছো কেন তুমি তনু?বললেই তো হয় কোথায় আছো তা। আমি কি রাগার মতো কোনো কথা বলেছি?'
তনু এবার আমায় তুই তুকাড়ি শুরু করলো। বললো,' তোর মতো লোকের সঙ্গে আমার সংসার করা সম্ভব না ! তুই আমায় সন্দেহ করস । বাপের বাড়ি আসতে দিতে চাস না! আমি কী খারাপ? আমি কি বাজারের মেয়ে?'
সে যা পেরেছে তাই বলেছে।আমি চুপচাপ সব হজম করলাম।আমি সবকিছুতেই এমন।রাগ দেখাতে পারি না। যদিও আমার মন খারাপ হয়।কষ্ট পাই। কিন্তু রাগটা আমার আসে না! কেন আসে না তাও বুঝি না। কখনো রাগ আসে কি না তাও জানি না!
'
তনুর সঙ্গে কথা শেষ করে লম্বা সময় ধরে ভাবলাম।কি করবো না করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। তনু কী সত্যি সত্যিই আশফাক সাহেবের সঙ্গে গিয়েছে? গেলে এভাবে আমার সঙ্গে কথা বলার কথা না। রাগ দেখাবার কথা না।সে বরং আমার সঙ্গে মিষ্টি করে কথা বলতো যেন আমি কিছুই আঁচ করতে না পারি!
এসব ভাবতে ভাবতেই তনুর ভাই আনোয়ারকে কল করলাম আমি। বুদ্ধি করে তাকে বললাম,' ভাইজান, তনু কোথায়? ওর কাছে গিয়ে ফোন দিয়েন তো একটু।'
আনোয়ার বললেন,' তনু তো ঘরে।আমি বাজারে আসছি। গিয়েই ওর কাছে দিবো।'
আমি যা বুঝার তা বুঝে ফেললাম।তনু তাহলে তার বাবার বাড়িই আছে। ওই মেয়ে লোকটি মিথ্যে বলেছে। ওই মেয়ে লোকটি আসলে কে , কি তার পরিচয় তা খতিয়ে দেখতে হবে।ওর পরিচয়টা খুঁজে বের করতেই হবে।ও আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ছে। আমাদের সংসার টা ভাঙতে চায় সে। এমনকি আশফাক স্যারের মতো এমন ভালো একটা মানুষকেও এখানে জড়াতে চাইছে সে। নিশ্চয়ই তার উদ্দেশ্য খুব খারাপ!
আমি তাড়াহুড়ো করে আনোয়ারকে আবার কল করলাম। তারপর বললাম,' ভাইজান, তনুর কাছে গিয়ে কিছু বলতে হবে না।তার সঙ্গে কথা হয়েছে আমার।'
আনোয়ার বললেন,' আচ্ছা।'
'
এরপর রাতের বেলা ওই মেয়ে লোকটির নম্বরে নিজে থেকেই কল করলাম আমি। তারপর ভদ্র ভাবেই কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দিলাম তাকে। বললাম,' নিজের চরিত্র ঠিক করুন আগে। মানুষের ভালো দেখে সহ্য হয় না তাই না? আপনাদের মতো মেয়েদের জন্য কতো মানুষের সুখের সংসার নষ্ট হয় তা ভেবে দেখেছেন একবার? আল্লাহ আপনাদের মতো মেয়েদের হেদায়েত দান করুন।'
মেয়ে লোকটিকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন কেটে দিলাম আমি। কিন্তু ফোন কাটার সঙ্গে সঙ্গেই তনুর ছোট মামীর নম্বর থেকে কল এলো আমার ফোনে।আমি ফোন রিসিভ করতেই মামী বললেন,' তমাল, আপনার সঙ্গে খুব গোপন একটা খেলা চলতেছে।যা শুনছেন তাই বিশ্বাস করবেন না। যে সহজেই বিশ্বাস করে সে ঠকে যায়।'
আমি অবাক হলাম।এটা আবার কোন ধরনের কথা!
আমি বললাম,' মামী, আপনার কঠিন কথার মর্মার্থ আমি বুঝিনি।দয়া করে বুঝিয়ে বলুন।'
মামী বললেন,' এরচেয়ে বেশি বলতে পারবো না বাবা। আক্কেল ওয়ালা লোকের জন্য ইশারায় যথেষ্ঠ।'
বলে কেটে দিলেন ফোন মামী।
আমি ফোন হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে রইলাম। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না আমি। কেন জানি হঠাৎ করেই মনে হলো, ভয়াবহ রকমের একটা বিপদের মধ্যে পড়ে গিয়েছি আমি। এবং মনে হলো, তনুর সঙ্গে আমার কুলিয়ে উঠা সহজ না। আমাকে ধোঁকা দেয়ার মতো কৌশল তার জানা আছে! কিন্তু কোনটা বিশ্বাস করবো আমি আর কাকে বিশ্বাস করবো? আশফাক স্যারের স্ত্রীর পরিচয় দেয়া মেয়ে লোককে নাকি তনু, আনোয়ার ভাইজানকে? আর ছোট মামী যে রহস্যময় কথাটা বললেন এর মর্মার্থ কী?
'
#চলবে
