গপ্পোবাজ একটি গল্প প্ল্যাটফর্ম, যা বিভিন্ন লেখকদের গল্প সমূহ পাবলিশ করে । প্রতিটি গল্পের মূল সত্বাধিকারী লেখক নিজেই । আমরা পাঠকদের চাহিদা মোতাবেক গল্পসমূহ পাবলিশ করে থাকি । কোনো গল্পের জন্য গপ্পোবাজ প্ল্যাটফর্ম দায়াবদ্ধ নয়। ধন্যবাদ।

লোভ - অনন্য শফিক । পর্ব ১


আমার স্ত্রীর গলায় যেদিন স্বর্ণের চকচকে সীতা হারটা দেখি সেদিনই আমার কেমন যেন সন্দেহ হয়।আমি তাকে জিজ্ঞেস করি।বলি,' এই হার তুমি কোথায় পেলে তনু?'

তনু বললো , সে কিনেছে।

আমি একেবারে চমকে উঠি।এতো টাকা সে কোথায় পাবে? এরকম একটা হারের মূল্য অনেক টাকা। তার তো এটা কেনার সামর্থ্য নাই।

ও আমার দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে উঠলো। তারপর বললো,' একেবারে আসল গোল্ডের মতো দেখা যায় তাই না?'

আমি বললাম,' আসলই তো এটা।'

তনু আগের চেয়ে আরো জোরে হাসে। তারপর বলে,' এটা ইমিটেশনের। কিন্তু তুমি চিনলে না। এই জগতে আসল নকল চেনা অতো সহজ না বুঝলে!'

তারপর আমি আর কথা বাড়াইনি। বুঝতে পেরেছি এটা আসলের মতোই দেখতে চকচকে।রং দেয়া। আমি চিনতে পারিনি। কিন্তু তনুর বলা ওই কথাটা বার বার আমার কানে বাজতে লাগলো।

এই জগতে আসল নকল চেনা অতো সহজ না!

'

কিন্তু এর কদিন পরেই যখন আমার স্ত্রীর কাছে  ভালো দামের একটা ফোন দেখি তখন আরো বেশি খটকা লাগে।আমি জিজ্ঞেস করি, 'এতো দামের ফোন কোথায় পেলে তুমি?'

তনু হাসে। তারপর বলে, তার এক বান্ধবী অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। ওখান থেকে এটা পাঠিয়েছে।

আমি বলি, ' ভালো। এমন বান্ধবী থাকা দরকার।আমার যদি এমন ধনী একটা বন্ধু বান্ধব থাকতো!'

তনু বলে,' এমন ভাবে বলছো কেন? বান্ধবী যদি একটা ফোন গিফট করে তবে কী এটা অন্যায় হয়ে যায়? এতে মহা ভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়? ' 

আমি বললাম,' আমি কী এই কথা বলেছি তনু?'

তনু আরো তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে।গলা বাড়িয়ে বলে ,' সবাই কী তোমার মতো ছোটলোক নাকি? তোমার মতো ফকির মিসকিন সবাই? দু' টাকার চাকরি করো। স্ত্রীকে ঠিকমতো কাপড় চোপড় টা দিতে পারো না। ভালো একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়াতে পারো না।কেউ কিছু উপহার দিলে এটা নিয়ে আবার সন্দেহ করো।'

আমি অবাক হলাম।এটা আবার কোন ধরনের আচরণ?

আমি ইচ্ছে করেই আর কথা বাড়ালাম না।চুপ করে রইলাম। সে তার যা ইচ্ছে তাই বকে গেল। এরপর দু তিনদিন আমার সঙ্গে কোন রকম কথাই বললো না। আলাদা বিছানায় শুইলো।

কথা বললো আরো চারদিন পর। তখন অবশ্য সরি বললো। তার এমন উদ্ধত আচরণের জন্য সে দুঃখ প্রকাশ করলো। বললো, আর এরকম হবে না। সেদিন রাগ উঠে গিয়েছিল তার।

এভাবেই সময় বয়ে যেতে লাগলো।তনুকে আমি একটুও বুঝতে পারি না। মাঝেমধ্যে সে খুব আনন্দিত থাকে। আবার মাঝেমধ্যে তার ভীষণ মন ভার। আমার সঙ্গে ঝগড়া করে যে মন খারাপ হয় বিষয়টা এরকম না। আবার আমার কোন ভালো আচরণের জন্য যে তার মন খুব আনন্দিত হয়ে যায় বিষয় এটাও না। তাহলে কি এমন বিষয় আছে যে কারণে তার এই পরিবর্তন ঘটে? আমি ধরতে পারি না।

আমি এরমধ্যে কয়েকবার চেষ্টা করেছি কনসিভ করবার জন্য ওকে রাজি করাতে। বিয়ের তো কম দিন হয়নি। পাঁচ বছর চলছে। কিন্তু সে শুনতেই পারে না এসব। রাগ দেখায়।বলে,' আমাকে খাওয়াতে পরাতে পারো না ঠিকমতো তাহলে সন্তান এলে কী খাওয়াবে? তোমার মাথা?'

আমি অবাক হই।আমি খুব সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। মোটামুটি চাকরি করছি একটা।এটা দিয়ে পরিবার নিয়ে মোটামুটি ভাবে চলে যাওয়া যাবে। জাঁকজমকপূর্ণ হবে না আর কি। কিন্তু আর দশটা সাধারণ পরিবারের মতই চলা যাবে। কিন্তু তনুর সন্তুষ্টি নেই। কেন নেই বুঝি না! অথচ তার বাবা মাও কিন্তু আহামরি ধনী ঘরের কেউ না। আমাদের মতোই। তাহলে তার এতো চাহিদা কেন? এভাবে কী একটা সংসার চলবে?

'

এর মাস দুয়েক পরেই হুট করে একদিন তনু বললো,' আগামীকাল আমি বাবা বাড়ি যাবো। গিয়ে কদিন থাকবো।'

আমি বললাম,' আমার অফিস চলে। এখন চলে গেলে কিভাবে কি হবে? রান্নাবান্না করবে কে? তাছাড়া কদিন পর ঈদ।আর এক মাস। তখন ছুটি আছে। দুজন না হয় এক সাথেই যাবো।'

তনু বললো,' আমার যা বলার তা বলেছি।আমি কাল যাবো। অনুমতি দিলেও যাবো। না দিলেও যাবো। আমার বাড়ির জন্য খারাপ লাগছে। এখানে থাকতে ইচ্ছে করছেনা। সপ্তাহ খানেক থেকে আবার এসে পড়বো।'

আমি বললাম,' তোমার যা ভালো লাগে তাই করো। আমার কথা কোনদিন আবার তুমি শুনলে?'

তনু আর একটা কথাও বলেনি। পরদিন অফিস গেলাম। ওখানে থেকে সন্ধ্যায় ফিরে এসে দেখি ও নাই। ফোন দিলে বললো, বাবার বাড়ি চলে এসেছি।

আমার রাগ লাগলেও সহ্য করে নিলাম। আমি কেমন যেন।রাগ দেখাতে পারি না। তনুর প্রতি ভীষণ দূর্বল আমি।তাই এবারেও রাগ দেখালাম না।হজম করে নিলাম।

কিন্তু এর দুদিন পর যখন একটা অচেনা মেয়ে লোক কল করলো আমায় তখন আমার কান খাড়া হয়ে উঠলো একেবারে।

মেয়ে লোকটি বললো,' আপনি তনুর স্বামী আনিস সাহেব না?'

আমি বললাম,' জ্বি।। আমি আনিস। আপনি?'

মহিলা খানিকটা সময় চুপ করে রইলো। তারপর  বললো,' আপনি কেমন পুরুষ শুনি? স্ত্রীকে দিয়ে কী দেহ ব্যবসা করান নাকি? '

কথাটা শুনে আমার মাথা কেমন যেন চক্কর দিয়ে উঠলো।এসব কি ধরনের কথা বলছে এই মেয়ে ! 

আমি বললাম,' কি বলছেন এসব আপনি?'

মহিলা বললো,' এখন দেখছি ভাজা মাছটাও উলটে খেতে জানেন না আনিস সাহেব! আপনার স্ত্রী তনু আমার স্বামীর সঙ্গে চট্রগ্রাম গিয়েছে। ওখানে কোনো হোটেলে উঠেছে গিয়ে। একসাথে থাকছে ওখানে।স্বামী স্ত্রীর মতো। আপনাকে না জানিয়ে আপনার স্ত্রী যায়নি নিশ্চই ? আপনি নিজেই পাঠিয়েছেন স্ত্রীকে। ওহ্, আপনি তো আবার আমার স্বামীর কোম্পানিতেই জব করেন। প্রমোশনের লোভে এটা করেছেন তাই না!'

'

'

চলবে

'

'

লোভ

অনন্য_শফিক

১ম_পর্ব


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.